Health Blogs & Articles
Read medical knowledge, tips, and articles about Brain & Spine treatments.
ব্রেইনে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক: জরুরি অবস্থায় করণীয়
মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়াকে হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke) বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপ বা ব্রেইনের রক্তনালীর জন্মগত ত্রুটি (Aneurysm/AVM) থেকে এটি হতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক মেডিকেল ইমার্জেন্সি। করণীয়: - রোগীর কথা জড়িয়ে গেলে বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে গেলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। - স্ট্রোকের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা (Golden Hour) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - দ্রুত সিটি স্ক্যান (CT Scan) করে রক্তক্ষরণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। রক্তক্ষরণ বেশি হলে ইমার্জেন্সি ক্রেনিওটমি (Craniotomy) সার্জারির মাধ্যমে রক্ত বের করে ব্রেইনের ওপর থেকে চাপ কমানো হয়। সঠিক সময়ে অপারেশন করা গেলে রোগীর জীবন বাঁচানো এবং স্থায়ী প্যারালাইসিস রোধ করা সম্ভব।
মাথা ও ঘাড়ের ব্যথায় কখন নিউরোসার্জনের কাছে যাবেন?
মাথা বা ঘাড়ে ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তবে কিছু কিছু ব্যথা মারাত্মক রোগের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে যদি ঘাড়ের ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়ে বা হাত ঝিঁঝিঁ করে, তবে এটি মেরুদণ্ডের ডিস্ক প্রোল্যাপ্স (PLID) বা নার্ভ কমপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। বিপজ্জনক লক্ষণ (Red Flags): - হঠাৎ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথা ব্যথা (Thunderclap Headache)। এটি ব্রেইনে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। - মাথা ব্যথার সাথে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বমি। - ব্যথার কারণে রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়া। - বয়স ৫০ পার হওয়ার পর নতুন করে মাথা ব্যথা শুরু হওয়া। এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে পেইনকিলার খেয়ে সময় নষ্ট না করে সরাসরি একজন নিউরোসার্জন বা ব্রেইন স্পেশালিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
মেরুদণ্ডের টিউমার (Spinal Tumor) এবং এর প্রতিকার
মেরুদণ্ডের টিউমার বা স্পাইনাল টিউমার হলো মেরুদণ্ডের হাড় বা স্নায়ুরজ্জুতে (Spinal Cord) হওয়া টিউমার। এটি স্নায়ুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে বিধায় দ্রুত চিকিৎসা না করালে স্থায়ী পক্ষাঘাত (Paralysis) হতে পারে। কীভাবে বুঝবেন? - পিঠের মাঝখানে বা নিচের অংশে তীব্র ব্যথা যা রাতে বেড়ে যায়। - হাত বা পায়ের শক্তি কমে যাওয়া। - হাঁটার সময় ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা। - প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা। চিকিৎসা পদ্ধতি: স্পাইনাল টিউমারের প্রধান চিকিৎসা হলো সার্জারির মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা। বর্তমানে মিনিমালি ইনভেসিভ স্পাইন সার্জারি (MISS) এর মাধ্যমে খুব ছোট ছিদ্র করে স্পাইনাল টিউমার অপারেশন করা হয়। ফলে রোগীর রক্তপাত কম হয় এবং তিনি খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
ব্রেইন টিউমার: কারণ, লক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসা
ব্রেইন টিউমার হলো মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এটি বিনাইন (Benign) বা ম্যালিগন্যান্ট (Malignant বা ক্যানসার) হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ নির্ণয় করতে পারলে আধুনিক নিউরোসার্জারির মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। লক্ষণসমূহ: - সকালের দিকে তীব্র মাথা ব্যথা। - বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। - দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা (ঝাপসা দেখা বা ডাবল দেখা)। - কথা বলতে বা বুঝতে অসুবিধা হওয়া। - শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া। - হঠাৎ করে খিঁচুনি শুরু হওয়া। আধুনিক চিকিৎসা: অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপিক এবং এন্ডোস্কোপিক প্রযুক্তির কল্যাণে ব্রেইন টিউমার অপারেশন এখন অনেক বেশি নিরাপদ। নিউরোনাভিগেশন (Neuronavigation) সিস্টেম ব্যবহার করে সার্জনরা মস্তিষ্কের সুস্থ কোষের কোনো ক্ষতি না করেই টিউমার বের করে আনতে সক্ষম হন। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোসার্জনের পরামর্শ নিন।